'বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাবর-আকবর-হুমায়ুন-শাহজাহান-ঔরঙ্গজেবের নাম লেখা হবে না', হুঙ্কার শুভেন্দুর
গঙ্গাসাগর ফেরত সাধুসন্তদের নিয়ে বাংলাদেশ উপদূতাবাসে ধর্নার হুমকি শুভেন্দুর! জামিন পেলেন মঙ্গলবারের বিক্ষোভকারীরা
রাত পোহালে ‘সিনিয়র সিটিজ়েন’! গ্যালাক্সি ছেড়ে পনবেলের খামারবাড়িতে রয়েছেন সলমন, কেমন আয়োজন?
ইহুদিদের রাস্তায় হেঁটে দিল্লির উপর ভরসা, ১০ লক্ষ ভারতীয়কে মোটা মাইনের চাকরি দেবেন পুতিন?
‘চিকেনস নেক’-এর দিকে তাকালেই মিলবে যোগ্য জবাব! ভারতের পদক্ষেপে চমকে গেল বাংলাদেশ
জয়া নন, রেখার ‘সতিন’ হতে চেয়েছিলেন অন্য এক অভিনেত্রী
ভারতীয় পণ্যকে জিআই তকমা দিতে আইন পরিবর্তনের পথে নিউ জ়িল্যান্ড
ভারতে ইলন মাস্কের ‘স্টারলিঙ্ক’-এর সুবিধা পাবেন মাত্র ২০ লক্ষ গ্রাহক! কবে থেকে? খরচই বা কত? জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
নাম কাটছে ভ্যানিশকুমারেরা’! জ্ঞানেশ, মনোজদের নিশানা মমতার, এআই দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপিরও আশঙ্কা
Jio-Airtelকে টেক্কা দিতে মাঠে BSNL, ৫০ দিনে ১০০GB ডেটার ধামাকাদার প্ল্যান
মাস্ক-ঝড়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শেয়ার বাজার, দেড় লক্ষ কোটি ডলারের আইপিও আনতে পারে মহাকাশ সংস্থা ‘স্পেসএক্স’
কমিশন জবাব দাও’! ফের সিইও দফতরের সামনে উত্তেজনা, পুলিশের, সঙ্গে ধস্তাধস্তি বিএলও-দের একাংশের
নির্বাচনের আগে শান্তি ফিরুক, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা কমুক’! পুতিনের দূত বার্তা দিলেন বাংলাদেশকে
মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনে জয়ী বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’ জোট, পদ্মশিবিরে উল্লাস
Muhammad Yunus on Bangladesh: ‘ধৈর্য ধরুন’, কেন এ কথা বললেন মহম্মদ ইউনূস?
বিএসএফ জওয়ানকে টেনেহিঁচড়ে বাংলাদেশ নিয়ে গেল গরু পাচারকারীরা! অপহৃতকে উদ্ধারের চেষ্টায় বাহিনী

ইডির আইপ্যাক অভিযান নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন অভিষেক, মালদহে নির্বাচনী ভাষণে বিজেপির সঙ্গে নিশানা করলেন কংগ্রেসকে

 

জেলা সফরে গিয়ে প্রতি দিন বিজেপিকেই নিশানা করছেন অভিষেক। বৃহস্পতিবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। তবে মালদহ জেলায় প্রচারে গিয়ে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করেছেন তিনি। যা বিধানসভা ভোটের প্রচারে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’।

image



মালদহে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর নাম করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্ন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তিনি কী কাজ করেছেন? মালদহের পাশের জেলা মুর্শিদাবাদের নিলম্বিত (সাসপেন্ডেড) তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নাম না-করে তাঁকেও নিশানা করেছেন অভিষেক। তবে আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।


বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের ‘পরামর্শদাতা’ সংস্থা আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে এবং প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা। প্রথমে প্রতীকের বাড়ি এবং তার পরে আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই জায়গা থেকেই কিছু ফাইল নিয়ে এসে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের নির্বাচনী কৌশল জেনে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সমস্ত ল্যাপটপ, আইফোন, তথ্য ইত্যাদি ফরেন্সিক টিম নিয়ে এসে নিজেদের হেফাজতে ‘ট্রান্সফার’ করেছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি অভিষেক এবং তাঁর দফতরের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করে আইপ্যাক। তাই অভিষেক আইপ্যাকের দফতরে বা প্রতীকের বাড়িতে ইডির তল্লাশি নিয়ে কিছু বলেন কি না, সে দিকে নজর ছিল সকলের। অভিষেক ওই বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মালদহের সভা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন অভিষেক। আরও এক বার অভিযোগ তোলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকেরা বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ বলে তাঁদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশিই কংগ্রেসশাসিত রাজ্য তেলঙ্গানা এবং কর্নাটকেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। সেই সূত্রেই তিনি তোপ দাগেন মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে। বলেন, “তেলঙ্গানা, কর্নাটকে তো কংগ্রেস সরকার! সেখানেও আমাদের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী তার জন্য ক’টা চিঠি লিখেছেন? কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?”



অন্য দলের সঙ্গে তৃ়ণমূলের ‘পার্থক্য’ বোঝাতে গিয়েও নাম না-করে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। বলেন, “অন্য দল বিজেপির কাছে হারে। আর এই বিজেপি তৃণমূলের কাছে হারে।” বিহারের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের সংযোজন, “মানুষ একজোট থাকলে বিজেপি ভেঙে যায়। আর মানুষ বিভক্ত হলে বিজেপি জিতে যায়। যেমনটা বিহারে দেখা গিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, সদ্যই মালদহের গনি পরিবারের সদস্য মৌসম বেনজির নূর তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের যোগ দিয়েছেন। অভিষেক মালদহে গিয়ে তাঁরও নাম নেননি। কিন্তু আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসকে। যে দল থেকে মৌসম তৃণমূলে এসেছিলেন এবং তৃণমূল ছেড়ে যে দলে তিনি ফিরে গিয়েছেন। মালদহে গনি পরিবারের ‘অবদান’ রাজ্য রাজনীতিতে একটি পরিচিত ঘটনা। ইশা খানও সেই পরিবারেরই সদস্য।

সরাসরি হুমায়ুনের নাম না-নিলেও তাঁর অতীতের বিজেপি-যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। বলেন, “কয়েকটি দল বিজেপির সঙ্গে ডিল (বোঝাপড়া) করেছে। আপনারা সবটা জানতে পারবেন। ২০১৯ সালে এক জন বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। এখন তিনি বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন। মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা তুলছেন।” প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন হুমায়ুন। যদিও তিনি হেরে যান।

জেলা সফরে গিয়ে প্রতি দিনই বিজেপিকে নিশানা করছেন অভিষেক। বৃহস্পতিবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। তবে তিনি যে ভাবে কংগ্রেসকে নিশানা করতেও সময় ব্যয় করেছেন, তা বিধানসভা ভোটের আগে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা গনিখান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য মৌসম বেনজির নূর। পাশের জেলা মুর্শিদাবাদে আবার নতুন দল জাতীয় উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেছেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় শাসকদলের ভোটে ভাগ বসাতে পারে কংগ্রেস এবং হুমায়ুনের নতুন দল। বিষয়টি আঁচ করেই বিজেপি বিরোধিতায় অন্য দলগুলির সঙ্গে অভিষেক তৃণমূলের পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলায় কথা বলার অপরাধে ভিন্‌রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে অত্যাচার করা হলে, একই ভাষায় কথা বলার জন্য রাজ্য বিজেপি নেতাদের কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। জানান, মালদহে যে মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সভা করবেন, সেই মাঠেই পাল্টা সভা করে পদ্মশিবিরকে ‘ট্রেলার’ দেখাবেন তিনি। ভোট মিটলে পরিযায়ীদের রাজ্যেই কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি যে কোনও প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন অভিষেক। তাঁর জন্য সকলকে একটি নম্বরও দিয়ে দেন তিনি। সভার পর পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন সারেন অভিষেক।

গত বিধানসভা ভোটে মালদহের ১২টি আসনের মধ্যে আটটিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। চারটিটে জয়ী হয় বিজেপি। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “২০২১ সালে আপনারা বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া আটকে দিয়েছিলেন। ভোটে হেরে ডেলি প্যাসেঞ্জাররা আবার দিল্লি পালিয়ে গিয়েছিল।” তবে ২০২৪ সালে মালদহের দু’টি লোকসভা আসনের মধ্যে একটিতেও জয়ী হতে পারেনি তৃণমূল। মালদহ উত্তরে জেতে বিজেপি, আর মালদহ দক্ষিণে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে জেলায় সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন আটকাতে মরিয়া রাজ্যের শাসকদল। বৃহস্পতিবার অভিষেক জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, জেলার ১২টি আসনেই জোড়াফুল ফোটাতে হবে।

'৪ দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়', ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে ফরমান আমেরিকার, তালিকায় ভারতের মিত্রও

 ভেনেজুয়েলাকে বন্ধুও বেছে দেবে আমেরিকা!


image

Published By: Amit Kumar Das

Posted: 09:51 AM Jan 07, 2026Updated: 10:38 AM Jan 07, 2026



কে বন্ধু, আর কে শত্রু সেটাও ঠিক করে দেবে আমেরিকা! ভেনেজুয়েলা অধিকারের পর সেখানকার বৈদেশিক সম্পর্কের যাবতীয় সমীকরণ এখন থেকে ঠিক করবে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার সেই ফরমানই জারি করা হল আমেরিকার তরফে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ৪ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না তারা। যেগুলি হল, চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। অর্থাৎ আমেরিকা শত্রু এখন থেকে ভেনেজুয়েলারও শত্রু।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলে শুধুমাত্র আমেরিকার অধিকার থাকবে। সেখানকার তেল বিক্রি করতে হবে ওয়াশিংটনকে। অতীতে যাদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মিত্রতা এবং তৈল বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল, সেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। আমেরিকার বেছে দেওয়া সেই ৪ দেশের তালিকায় রয়েছে, চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলাকে অধিক পরিমাণ তেল উৎপাদনের অনুমতি তখনই আমেরিকা দেবে যখন তারা এই দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করবে। তবে এবিসি-র এহেন রিপোর্ট সামনে আসার পরও হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি।



উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভেনেজুয়েলা। শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন করা তেলের ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হত চিনকে। পাশাপাশি এই চার দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সমঝোতা ছিল ভেনেজুয়েলার। চিন ও রাশিয়ার বিপুল বিনিয়োগও রয়েছে এই দেশে। এই অবস্থায় প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার অর্থ ভেনেজুয়েলার বিদেশনীতির উলটপুরান। যা ভেনেজুয়েলার জন্য সমূহ ক্ষতির বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলা। সেখানে মজুত রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুরু থেকেই এই তেলের ভাণ্ডারে নজর ছিল আমেরিকার। তবে সে পথে প্রধান বাধা ছিলেন নিকোলাস মাদুরো। মাদক পাচারের ধুয়ো তুলে তাঁকে সরাতেই ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালায় আমেরিকা। উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পর এখন আমেরিকার লক্ষ্য সেখানে ‘পুতুল সরকার’ বসিয়ে ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদ লুট। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকাকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের অনুমোদিত তেল সরবরাহ করবে। এই তেল বিক্রি করা হবে বাজার মূল্যে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই তেল বিক্রির অর্থ থাকবে আমার নিয়ন্ত্রণে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার জনগণের উন্নতির লক্ষ্যে।’



উত্তরপ্রদেশে এসআইআরের প্রথম পর্বেই বাদ ২.৮৯ কোটি ভোটার! পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ নাম ছাঁটাই হল

 ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ নাম ছিল। এনুমারেশন-পর্ব শেষে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ভোটারের নাম।


image

আপাতত বাদ পড়া ভোটারের তালিকা— পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ। 



তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পরে অবশেষে উত্তরপ্রদেশে এসআইআর-পর্বের প্রথম ধাপের শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হল। এনুমারেশন ফর্ম জমা ও যাচাই পর্বের পরে যোগী আদিত্যনাথেকর রাজ্যে খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় পাঁচ গুণ!



২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ভোটার তালিকায় উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। এনুমারেশন-পর্ব শেষে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ভোটারের নাম। অর্থাৎ, বাদ পড়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। যা কিনা দেশের বৃহত্তম রাজ্যটির মোট ভোটারের তুলনায় ১৮.৭০ শতাংশ।


উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রভনীত রিনওয়া জানিয়েছেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের মধ্যে ৪৬ লক্ষ ২৩ হাজার মৃত ভোটার রয়েছেন। এ ছাড়া, দু’জায়গায় নাম রয়েছে এমন ভোটার (ডুপ্লিকেট) ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটার ২ কোটি ১৭ লক্ষ। এঁদের নামও খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে এমন ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথি দেখানোর জন্য শুনানিপর্বে হাজির হতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।


পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে খসড়া তালিকায় ৭.৬ শতাংশ ভোটার বাদ পড়েছিল। অঙ্কের হিসাবে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজারের সামান্য বেশি। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে আঁচ পেয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেই ঘনিষ্ঠমহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে হারাতে সচেষ্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, সোমবার দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন আদিত্যনাথ। তিনি দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গেও।

‘খুব তাড়াতাড়ি’ ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত আমেরিকার, ট্রাম্প বললেন, মোদী জানতেন আমি খুশি নই!
এসআইআর-শুনানির নোটিস সাংসদ অভিনেতা দেবকে! তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকেও নথি নিয়ে তলব নির্বাচন কমিশনের
আরও কাঁপুনি ধরাবে ঠান্ডা? এক ধাক্কায় তিন ডিগ্রি পারদপতনের পূর্বাভাস! কী হবে কলকাতায়, রাজ্যের অন্যত্রই বা কী
ভোটের আগে জেলায় ফের শুরু বদল, প্রশ্ন বিজেপিতে
ভারতেই আয়োজিত হবে...', মোদির সুরে দেশের জন্য লক্ষ্য বেঁধে দিলেন জয় শাহ
আমাকে খুশি রাখাটা জরুরি!' রুশ তেল কেনায় ফের মোদীকে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
‘এসআইআরে পশ্চিমবঙ্গ আর বিহারের জন্য আলাদা নিয়ম’! একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে মমতা ফের চিঠি লিখলেন জ্ঞানেশকে
পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে, দাবি রাশিয়ার

Bangladesh Indiat trade:ভারত নিয়ে ফুঁসে বিদ্বেষ জাহির করলেও, এদেশ থেকে বিপুল জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে,খরচ কত?

 

ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়া করে ক্রিকেট নিয়ে মুখ বেঁকালেও, বাংলাদেশকে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে সেই ভারতের থেকেই!

Published on: Jan 06, 2026 9:11 PM ISTBy . Amaresh Mandal 


imageমহম্মদ ইউনুস

মুস্তাফিজুর ইস্যুতে সদ্য বাংলাদেশ একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথমে তারা জানিয়েছে, তারা ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না, এরপর তারা আইপিএলর সম্প্রচার বন্ধ করেছে সেদেশে। এই প্রথম নয়। হাসিনা-হীন বাংলাদেশে এর আগেও ভারত বিরোধিতার নানান দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সদ্য ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশ পৌঁছতেই, সেই রাতে বাংলাদেশ নানান প্রান্তে ভারত বিরোধী সুর শোনা যায়। তার আগেও বহু সময় ভার বিরোধিতা, ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক বাংলাদেশের কিছু মহল থেকে উঠে আসে। এরই মাঝে বাংলাদেশের ইউনুস সরকার ভারত থেকে জ্বালানি তেল কিনতে চলেছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক আঙিনা থেকে এমনই খবর উঠে আসছে।
ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টনের জ্বালানি তেল কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। এই ইউনুস সরকারের আমলে এবার ভারত থেকে ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) খরচ করে জ্বালানি ডিজেল কিনবে বাংলাদেশ। ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) এর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ তেল কিনবে ঢাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাজেট ও ব্যাংক। এর আগে, এই জ্বালানি তেল কেনার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয় উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির কাছে। সেই কমিটি প্রস্তাবে অনুমোদন করে। প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশ এই জ্বালানি আমদানি ভারত থেকে।
উল্লেখ্য, মুস্তাফিজুরকে ঘিরে যখন ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সুর চড়া করছে বাংলাদেশ, তখন জ্বালানি কিনতে সেই ভারতেরই দ্বারস্থ হয়েছে মহম্মদ ইউনুস সরকারের ঢাকা। এই নিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের তরফেও প্রশাসনের কাছে যায় প্রশ্ন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, নুমালীগড় থেকে ডিজেল আনার এই চুক্তি ১৫ বছরের। এই চুক্তি আগে হয়েছে, তাদের সরকার করেনি। সেই চুক্তির অধীনেই এই জ্বালানি নেওয়া হচ্ছে। ভারত ছাড়াও চিন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত থেকে জিটুজি মেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে জ্বালানি তেল কিনছে বাংলাদেশ।
সভা শেষ করে সোনালির সঙ্গে দেখা করতে পারেন অভিষেক
‘জ্ঞানেশ আঙুল তুলেছেন, ওঁকে বলেছি, আঙুল নামিয়ে কথা বলুন! আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত’, রণং দেহি অভিষেক
শক্তি বাড়বে ভারতীয় সেনার! তিন বাহিনীর জন্য ৭৯,০০০ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম, মিলল কেন্দ্রের অনুমোদন
'শাহরুখ খান গদ্দার!', হিন্দু-হত্যাকারী বাংলাদেশকে তোষণ? মুস্তাফিজুর ইস্য়ুতে BJP নেতার রোষে বাদশা
২৮ আসনের মধ্যে ২০টি পেতে হবেই! কলকাতা ও শহরতলির বিজেপি নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য বেঁধে দিয়ে গেলেন অমিত শাহ
পারদ পতনের প্রতিযোগিতা জেলায় জেলায়, দাপট কুয়াশার, বর্ষশেষে শীত বলছে ‘খেলা হবে’
রুপির ধাক্কা সামলাতে ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করল RBI!
রোহিঙ্গা প্রশ্ন তৃণমূলের

পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে, দাবি রাশিয়ার

 image

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। তবে কিয়েভ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

লাভরভ বলেন, রাশিয়ার নভগোরোদ অঞ্চলে এ হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে। হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই হামলার জবাবে রুশ বাহিনী পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


লাভরভ এ-ও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই। নভগোরোদে ওই হামলার সময় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৯১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সে সময় পুতিন নভগোরোদে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি লাভরভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ড্রোন হামলায় তাঁর দেশের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে রাশিয়ার ‘মনগড়া’ বক্তব্য বলে দাবি করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের একদিন পর রাশিয়া এমন দাবি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ‘রাশিয়া আবারও একই কাজ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সব অর্জনকে নিচু করে দেখাতে বিপজ্জনক বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে আরও দ্রুত শান্তি ফেরানো যায়।’

এদিকে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ‘ইতিবাচক ফোনালাপ’ হয়েছে। তবে দুই নেতার ফোনালাপে কী নিয়ে কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।



ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে মাদুরোকে অপহরণ: আমেরিকার এই ডেল্টা বাহিনী কী? কী কী কাজে এদের ব্যবহার করে পেন্টাগন?

 

image 


 আমেরিকার এই বাহিনী তৈরি হয় ১৯৭৭ সালে। পরিচালিত হয় নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে। ব্রিটিশ সেনার ‘২২তম স্পেশ্যাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট’-এর সঙ্গে এর কর্মপদ্ধতির অনেকটা মিল রয়েছে।



আমেরিকার সেনার এক বিশেষ ইউনিট ডেল্টা বাহিনী। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করতে এই বাহিনীকেই পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৫০ বছর আগে তৈরি হওয়া আমেরিকার এই বিশেষ বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গোপনে অভিযান চালিয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের খোঁজে আমেরিকার অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ডেলটা বাহিনীর। যদিও লাদেনকে হত্যা করেছিল মার্কিন নৌসেনার সিল বাহিনী।



পেন্টাগনের সামরিক শক্তির একটি অন্যতম স্তম্ভ বলা যেতে পারে এই ডেল্টা বাহিনীকে। আমেরিকার এক অভিযান সামরিক শাখা। কাজ করে খুব গোপনে। ডেল্টা বাহিনীর অভিযানের খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে ‘অপারেশন প্রাইম চান্স’, ইরাক থেকে বন্দি উদ্ধার, আইএস জঙ্গি আবু বকর আল-বাগদাদির বিরুদ্ধে অভিযান, সোমালিয়ার অপারেশন গথিক সার্পেন্টের মতো কিছু অভিযানে ডেল্টা বাহিনীর জড়িত থাকার কথা শোনা যায়।

আমেরিকার এই বাহিনী তৈরি হয় ১৯৭৭ সালে। পরিচালিত হয় নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে। ব্রিটিশ সেনার ‘২২তম স্পেশ্যাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্ট’-এর সঙ্গে এর কর্মপদ্ধতির অনেকটা মিল রয়েছে। জানা যায়, মার্কিন সেনার তৎকালীন কর্নেল চার্লস বেকউইথ ব্রিটিশ সেনার এই বাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হন। তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হয় আমেরিকার ডেল্টা বাহিনী। এই ইউনিটটি রয়েছে মার্কিন সেনার স্পেশ্যাল অপারেশন্‌স কমান্ডের অধীনে। ডেল্টা বাহিনীর সদস্যেরা জবাবদিহি করেন পেন্টাগনের জয়েন্ট স্পেশ্যাল অপারেশন্‌স কমান্ডকে। আমেরিকার এই বাহিনীর পুরো নাম ‘স্পেশ্যাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট— ডেল্টা’। সংক্ষেপে ‘ডেল্টা’ নামেই অধিক পরিচিত এই বাহিনী।



বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকে এই বাহিনী। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই ডেল্টা বাহিনীর উপরেই ভরসা রেখেছে পেন্টাগন। বন্দি উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদী হামলার ঝুঁকি কমানো বা আড়াল থেকে নজরদারি— এমন বিভিন্ন অভিযানে সিদ্ধহস্ত আমেরিকার এই অভিজাত বাহিনী। স্বল্প দূরত্বে শত্রুকে নিশানা করা থেকে শুরু করে স্নাইপার চালানো, বিস্ফোরকের ব্যবহার, গোপন অনুপ্রবেশের জন্যও এই বাহিনী বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত। আমেরিকার এই ডেল্টা বাহিনীতে মূলত চারটি স্কোয়াড্রন রয়েছে। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে আবার তিনটি করে ভাগ রয়েছে। এই তিনটি দলের মধ্যে একটি দল স্নাইপার এবং তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে। বাকি দু’টি দল সরাসরি অভিযানে যুক্ত থাকে।

ভারতেই আয়োজিত হবে...', মোদির সুরে দেশের জন্য লক্ষ্য বেঁধে দিলেন জয় শাহ

 আর কী নিয়ে কথা বললেন আইসিসি চেয়ারম্যান?


image



মুস্তাফিজুর রহমান বিতর্কে উত্তাল ক্রিকেট দুনিয়া। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশি পেসারকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পালটা ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বোর্ড। সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি আইসিসি। তবে জয় শাহ ভারতের জন্য অন্য লক্ষ্য বেঁধে দিলেন। সেটা অবশ্য ক্রিকেট নিয়ে নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরে সুর মিলিয়ে কী বললেন আইসিসি চেয়ারম্যান?


রবিবার মোদি বলেন, "২০৩০-র কমনওয়েলথ গেমস ভারতের মাটিতে হবে। এর পাশাপাশি আমরা ২০৩৬-র অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোরদার চেষ্টা করছি। তার আগে দেশের প্লেয়ারদের আরও বেশি করে খেলার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।" অবশ্য মোদির বক্তব্যের আগেই শনিবার গুজরাটের একটি অনুষ্ঠানে জয় শাহ ভারতে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় ২০৩০-র কমনওয়েলথ গেমস ভারতে হবে। কিন্তু আমাদের সেখানে থামলে হবে না। ২০৩৬-র অলিম্পিকও আমাদের আয়োজন করতে হবে।"


এর সঙ্গে তিনি নতুন লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিচ্ছেন। জয় শাহ বলেন, "২০২৪-র অলিম্পিকে আমরা আটটা মেডেল পেয়েছিলাম। কিন্তু ২০৩৬-এ আটটা মেডেলে চলবে না। আমাদের অন্তত ১০০টা মেডেল জিততে হবে। তার মধ্যে ১০টা গুজরাট থেকে আসবে। এই নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। ২০২৪-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমি বলেছিলাম, এবার আমরা জিতবই। সেটা হয়েছে।" তবে সাম্প্রতিক বিষয়, এমনকী ক্রিকেট নিয়েও আর কিছু বলেননি তিনি।


উল্লেখ্য, ওপার বাংলায় মৌলবাদীদের আগ্রাসন আর ধর্মের নামে হানাহানিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সংখ্যালঘুরা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে দীপু দাসকে। বাংলাদেশে হিন্দুহত্যার প্রতিবাদে শামিল ভারত। ওপার বাংলার ঘটনাপ্রবাহের আঁচ পড়েছে এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও। এ বছর রেকর্ড ৯.২ কোটি টাকায় বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসারকে দলে নিয়েছিল নাইটরা। কিন্তু মুস্তাফিজুরকে খেলানোয় প্রবল আপত্তি ওঠে। পরে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় কেকেআর। এবার পালটা চালে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এবার দেখা যাক গোটা বিষয়টা নিয়ে আইসিসি ও বিসিসিআই কী পদক্ষেপ নেয়।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে রিপোর্ট জমা দিলেন রাজ্যপাল বোস! এসআইআরের পাশাপাশি উল্লেখ বাংলাদেশের কথাও

 

রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশি সীমান্তপথ দিয়ে সে দেশে ফিরে গিয়েছেন। ওই সময়ে রাজ্যপাল বোসও সীমান্তবর্তী এলাকায় যান।







image

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস শনিবার দেখা করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত।





দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে বেশ কিছু ক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের। রাজভবন সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে মূলত পাঁচটি বিষয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। সূত্রের খবর, রিপোর্টে যেমন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রসঙ্গ রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রাক্‌নির্বাচনী পরিস্থিতির কথাও। এমনকি পড়শি দেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।



রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশি সীমান্তপথ দিয়ে সে দেশে ফিরে গিয়েছেন। ওই সময়ে রাজ্যপাল বোসও সীমান্তবর্তী এলাকায় যান। উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে গিয়ে সেখান সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। ওই পরিস্থিতির কথা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভাঙচুর, তাণ্ডব চলেছে সে দেশে। সেই পরিস্থিতি নিয়েও তথ্যসংগ্রহ করেছেন রাজ্যপাল বোস। ওই বিষয়গুলিও তিনি রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এ সবের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।



কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে। তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যে নিজের নিজের মতো করে প্রচারপর্ব শুরু করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে নির্বাচনের আগে সার্বিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকে কী ভাবে শান্তিপূর্ণ রাখা যায়— তা নিয়েও রাষ্ট্রপতির কাছে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন রাজ্যপাল।
লক্ষ মতুয়া ভোট দিতে না-পারলেও ‘লাভ’! কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের এসআইআর-মন্তব্যে জল্পনা, বিতর্ক
বিহারকে কত টাকা, বৈঠকে মোদী-নীতীশ
ইডি আবার বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে তৎপর, বাজেয়াপ্ত করা হল প্রয়াগ গোষ্ঠীর ১১০ কোটির সম্পত্তি
মুনিরই ‘পাকিস্তানের প্রধান’! ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে ফের বলতে গিয়ে মন্তব্য ট্রাম্পের,পরে আনলেন শাহবাজ়ের নাম
Bangladesh Unrest| Who is Dipu Chandra Das? বারুদের স্তূপে বাংলাদেশ! গাছে বেঁধে, মিথ্যে অভিযোগে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হিন্দু যুবক দীপু দাস আসলে কে?
অন্ধ ভারত বিরোধিতা করে বাংলাদেশকে খাদে নিয়ে যাচ্ছে ইউনুস সরকার: হাসিনা
বাংলাদেশে লাগাতার হিন্দু নির্যাতন, প্রতিবাদের আঁচে উত্তাল কলকাতা, বিক্ষোভে সামিল শুভেন্দু, দিলেন চরম সতর্কবার্তা
দীপু হত্যার বিচার চেয়ে বেকবাগানে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রক্ত ঝরল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া ‘বদ প্রতিবেশী’ বলে তোপ জয়শঙ্করের! বার্তা দিলেন বাংলাদেশকেও, কী কী বললেন

 

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের তরফে হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছিল, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। শুক্রবার তার জবাব দিয়েছেন জয়শঙ্কর।


image




পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া ‘বদ প্রতিবেশী’ বলে তোপ দাগলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে সরাসরি পাকিস্তানের নাম করেননি তিনি। জয়শঙ্কর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশকেও। এ ক্ষেত্রেও সে দেশের নাম করেননি বিদেশমন্ত্রী।



শুক্রবার আইআইটি মাদ্রাজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি জানান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে ভারতের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে বাইরের কারও পরামর্শ নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বদ প্রতিবেশী যখন থাকে, তখন ভারতকে তার জনগণকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হয়। আমরা কী ভাবে সেই পদক্ষেপ করব, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের সুরক্ষার জন্যই আমরা যা করার করব।”



বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের তরফে হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছিল, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। শুক্রবার তারও জবাব দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনি আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়াবেন, আবার জলবণ্টন করার আর্জিও জানাবেন— এটা হতে পারে না।” প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি স্থগিত রেখেছে ভারত।


একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাম না-করেই ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশটিকে বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনাকে কেউ ভুল বুঝলে, কী ভাবে তা আটকাবেন?” নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি সততা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন, তা হলে অন্য দেশ এবং সে দেশের মানুষেরাও সম্মান করবে।” এ ক্ষেত্রে কোনও দেশের উদাহরণ না-দিলেও মনে করা হচ্ছে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের কথাই বলতে চেয়েছেন। সে দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনগণের একাংশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব লক্ষ করা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার খালেদার শেষযাত্রায় যোগ দেন জয়শঙ্কর।

রুপির ধাক্কা সামলাতে ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করল RBI!

 সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রুপির অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সরকারের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর, এই দশ মাসে আরবিআই মোট ৩১.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে (RBI Dollar Sell)। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, গত বছর একই সময়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২৩.০৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল। সেখানে ২০২৫ সালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেল।


image



কেন এত ডলার বিক্রি?

আসলে বিশেষজ্ঞদের মতে এই পদক্ষেপের পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপ কমানো, বৈশ্বিক পুঁজির দিকে পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এবং সুদের হারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনও নির্দিষ্ট বিনিময়ের হার রক্ষা করবে না, বরং বাজারের ওঠানামা ঠেকাতেই হস্তক্ষেপ করবে।

এদিকে আরবিআই এর সক্রিয় পদক্ষেপ সত্ত্বেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে রুপির মূল্য ৩.৩ শতাংশ তলানিতে ঠেকেছে, যার তুলনায় ২০২৪ সালে একই সময়ে রুপির পতন ছিল মাত্র ২.২ শতাংশ। আর এতে স্পষ্টত উঠে আসছে যে, বাইরের চাপ এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার উপর প্রভাব ফেলছে।


আরবিআই-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে মোট ২০৭.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আর ২০২৪ সালের একই সময়ে সেই অংক পৌঁছেছিল ১১৪.৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মোটামুটি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রতি মাসে প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ১৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার। এ বিষয়ে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার মুখ্য অর্থনীতিবিদ বলেছেন, ২০২৫ সাল অত্যন্ত অস্থির ছিল। তাই আরবিআই এর হস্তক্ষেপ করা স্বাভাবিক। সেই কারণেই এবার ডলার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

রোহিঙ্গা প্রশ্ন তৃণমূলের

 বুধবার দিল্লির নির্বাচন সদনে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ৩টে পর্যন্ত তৃণমূল ও কমিশনের এই বৈঠক শেষে বেরিয়ে অভিষেকের দাবি, বৈঠকের মধ্যে নাকি আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন জ্ঞানেশ কুমার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৫

image


এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে বছরের শেষ দিনটা চিহ্নিত হয়ে রইল তৃণমূল প্রতিনিধিদল ও নির্বাচন কমিশনের আড়াই ঘণ্টার উত্তপ্ত বৈঠকে। তৃণমূলের দশ প্রতিনিধির দলটির নেতৃত্বে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো দিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন আরও দুই কমিশনার। সূত্রের খবর, বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে অভিষেক প্রশ্ন করেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে কত জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা, তা জানানো হচ্ছে না কেন?

দুপুরের এই বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশন একের পর এক বিবৃতি দিয়ে পাল্টা চাপ তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের উপর। কমিশনের বক্তব্য, তৃণমূলের কোনও নিচুতলার রাজনৈতিক প্রতিনিধি যেন নির্বাচনে কর্তব্যরত কর্মীকে হুমকি না দেন, তা দলীয় নেতৃত্বকে নিশ্চিত করতে হবে। এ কথা তৃণমূলের নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দিল্লির নির্বাচন সদনে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ৩টে পর্যন্ত তৃণমূল ও কমিশনের এই বৈঠক শেষে বেরিয়ে অভিষেকের দাবি, বৈঠকের মধ্যে নাকি আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাতে বাধা দিয়ে অভিষেকও বলেছেন, ‘আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। মনে রাখুন, আপনি মনোনীত। আমি নির্বাচিত।’

বৈঠক শেষে আজ আরও এক বার বিজেপির সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের যোগসাজশের অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, “কেন্দ্রীয় সমবায়মন্ত্রী কে? অমিত শাহ। তাঁর সচিব কে ছিলেন? জ্ঞানেশ কুমার। আপনারা মনে করেন এটা কাকতালীয়? ওঁকে এই প্রতিষ্ঠান, সংবিধান, দেশ ধ্বংস করার মিশনে এখানে পাঠানো হয়েছে। আমরা মানুষের ক্ষমতার সামনে মাথা নিচু করি। ক্ষমতাশীল মানুষের সামনে নয়।’’ অভিষেকের অভিযোগ, রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে এসআইআর গণনাপত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের ধোঁয়াশার কারণ দেখিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তাঁদের তালিকা কেন প্রকাশ করছে না কমিশন? নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। কমিশন কোনও স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলছে। অসুস্থ ও প্রবীণদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হচ্ছে। তাঁদের কেন অনলাইন শুনানি করা হচ্ছে না,এই অভিযোগও তোলা হয়। গত সোমবার এ ব্যাপারে কমিশননোটিস দিয়ে জানিয়েছে, যাঁরা ৮৫ বছর বা তার ঊর্ধ্বে, তাঁদের বাড়িগিয়ে শুনানি হবে। তৃণমূলের এ ক্ষেত্রে দাবি, ষাট বছরের বেশিবয়স্কদের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থানেওয়া হোক।

অভিষেক বলেন, কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বার বার বলছে, পশ্চিমবঙ্গে নাকি এক কোটিরোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি রয়েছে। বাংলার নানা ভাবে বদনামওকরা হচ্ছে। অথচ খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদপড়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছি, তাদের মধ্যে কত জন রোহিঙ্গা ও কত জন বাংলাদেশি, কিন্তু কোনওস্পষ্ট উত্তর মেলেনি।” ভিন্ রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগও করেন অভিষেক। বলেন, “বিএলএ-২ কেন শুনানিতে থাকতে পারবে না, তা নিয়ে কমিশন কোনও সার্কুলার দিতে চায়নি। ওয়টস্যাপ নির্দেশিকায় কি নির্বাচন কমিশন চলছে? লিখিত নোটিস না থাকলে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।”

তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের কোনও নিচুতলারপ্রতিনিধি যেন নির্বাচনে কর্তব্যরত কর্মীকে হুমকি না দেয়, তা দলীয় নেতৃত্বকে নিশ্চিত করতে হবে। কমিশনের নির্দেশ, এই ধরনের কোনও দুষ্কৃতী নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএলও, ইআরও, এইআরও, পর্যবেক্ষকদের মতো কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে রাজনৈতিক দলের নেতারা হুমকি দিলে বা ভয় দেখালে, তা বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বহুতল আবাসন, গেট দেওয়া আবাসিক এলাকা, বস্তিতে ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হবে। এই নিয়েমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রবল আপত্তি রয়েছে।

এর আগে নভেম্বরের শেষে তৃণমূলের দশ জনের প্রতিনিধিদল দেখা করেছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। সে দিন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বেরদাবি ছিল, বিএলও-দেরমৃত্যুর পিছনে রয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর জন্যই ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা জবাবে কমিশন সূত্রে বলা হয়েছিল, তৃণমূল যেন বিএলও-দের মানসিক চাপ না দেয়। আজ কমিশন বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এখনই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিএলও-দের বর্ধিত ভাতা মঞ্জুরকরতে হবে।

সভা শেষ করে সোনালির সঙ্গে দেখা করতে পারেন অভিষেক

 দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে আটকে থাকা সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে। সোনালি সহ দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে পুশব্যাক করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়


image



বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে আটকে থাকা সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে। সোনালি সহ দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে পুশব্যাক করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ জানুয়ারি রামপুরহাটের বিনোদপুর মাঠে জনসভা করতে আসছেন অভিষেক। ওইদিনই সোনালির সন্তান প্রসবের দিন। তার আগের দিন সোনালিকে রামপুরহাট মেডিকেলে ভর্তি করবেন পরিবারের সদস্যরা। এমনটাই জানা গিয়েছে পরিবার। তৃণমূল সূত্রের খবর, ওইদিন সভা শেষে মেডিকেলে গিয়ে সোনালির সঙ্গে দেখা করতে পারেন দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক। এ কথা জানার পর আপ্লুত সোনালি। ফোনে তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য। অভিষেকবাবু এলে আমার স্বামী সহ অন্যান্যদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার আবেদন রাখব।’ 



বুধবার তারাপীঠে টিআরডিএ অফিসে অভিষেকের সফর ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার, টিআরডিএর চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, লাইন ডিপার্টমেন্টের আধিকারিক ও মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।



জানা গিয়েছে, ওইদিন হেলিকপ্টারে আসবেন অভিষেক। দুপুর ১২ টার পর তারাপীঠের চিলা মাঠে নামবেন তিনি। সেখান থেকে সোজা যাবেন তারাপীঠ মন্দিরে। নতুন বছরে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় পুজো দেবেন। তারপর ফের হেলিকপ্টারে চড়ে বিনোদপুর গ্রাম সংলগ্ন সভাস্থলে আসবেন। ইতিমধ্যেই চিলামাঠ ও সভাস্থলের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সেই মাঠ ও মন্দির ঘুরে দেখেন পুলিশ ও অভিষেকের নিরাপত্তা আধিকারিকরা। ওইদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাকে দেখতে মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হতে পারে। সেই ভিড়কে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোনদিক দিয়ে অভিষেক মন্দিরে ঢুকবেন, সেই সব খতিয়ে দেখেন তাঁরা। আশিসবাবু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেবেন। সেই নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে। মন্দিরে পুজোর নোডাল অফিসার করা হয়েছে সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে। 

লোকসভার ভোটের সময় তারাপীঠ মন্দিরে এসেছিলেন অভিষেক। এবারও তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি। তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূলের হাত ধরে তারাপীঠের ভোল পাল্টে গিয়েছে। মন্দির চত্বর থেকে ডাবল লেনের রাস্তা, পথবাতি, দ্বারকা নদের পাড়ের সৌন্দর্যায়ান, বিশ্ববাংলার ঘাট সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ তারাপীঠকে আন্তজার্তিক মানের তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে। ওইদিন অভিষেকবাবুকে উত্তরীয়, শাল, পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি দেবীর প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হবে।’ তৃণমূল সূত্রের খবর, ওইদিন জনসভা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিতে পারেন অভিষেক। বিজেপিকে আক্রমণ করার সুরও বেঁধে দিতে পারেন। পাশাপাশি, তিনি সবচেয়ে বেশি সরব হতে পারেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, ‘এদিন সেফটি সিকিউরিটি নিয়ে মিটিং হয়েছে। তবে, সোনালি বিবির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করবেন কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।’ (ফাইল চিত্র